অনলাইনে কীভাবে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এবং বাঁচার কার্যকরী উপায়

অনলাইনে প্রতিনিয়ত মানুষ নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। জেনে নিন অনলাইন স্ক্যাম, সাইবার ক্রাইম ও শপিং প্রতারণা থেকে বাঁচার সহজ উপায় ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কৌশল।

Aug 15, 2026 - 22:38
Updated: 4 days ago
0 22
অনলাইনে কীভাবে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এবং বাঁচার কার্যকরী উপায়

অনলাইনে কীভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে মানুষ এবং কীভাবে বাঁচবেন

কল্পনা করুন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা উধাও। কিংবা আপনার পরিচিত একজনের ফোন নম্বর থেকে মেসেজ আসলো, বিপদে আছেন, টাকা পাঠান। অথচ সেই মানুষটি আপনার সামনেই বসে আছেন! বিশ্বাস করুন, এই দৃশ্যগুলো আজ আর সিনেমার গল্প নয়। অনলাইন জগতে প্রতারণা এখন এতটাই সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে চোখ বুজে বিশ্বাস করাই স্বাভাবিক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাচ্ছেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানেন না আসলে ঘটনাটা কীভাবে ঘটল। এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে জানবো অনলাইনে প্রতারণার প্রকৃত চিত্র কেমন, কোন কোন ফাঁদে মানুষ সবচেয়ে বেশি পড়ছেন, এবং নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কী কী করণীয়।

অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার নিরাপত্তা

কেন প্রতারণা এত দ্রুত বাড়ছে?

প্রযুক্তি যত সহজ হয়েছে, প্রতারকদের কাজও তত সহজ হয়েছে। আগে প্রতারণা মানে ছিল চিঠি, ফোন কল বা সরাসরি দেখা করা। এখন একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগই যথেষ্ট। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল। বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে অনলাইন লেনদেন, অনলাইন কেনাকাটা, ফ্রিল্যান্সিং এবং রিমোট জবের প্রতি মানুষের নির্ভরতা অনেক বেড়ে গেছে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে অসাধু চক্রগুলো। মানুষ এখন ঘরে বসেই কাজ করতে চায়, দ্রুত আয় করতে চায়, সহজে কেনাকাটা করতে চায় — আর এই চাওয়াগুলোকেই অস্ত্র বানাচ্ছে প্রতারকরা।

অনলাইন প্রতারণার প্রধান কয়েকটি ধরন

অনলাইনে প্রতারণার কোনো একটি নির্দিষ্ট রূপ নেই। প্রতারকরা প্রতিনিয়ত তাদের পদ্ধতি বদলাচ্ছে। তবে কিছু কমন প্যাটার্ন আছে যেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখলে বিপদ এড়ানো অনেক সহজ। নিচে সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. ফিশিং অ্যাটাক (Phishing Attack)

ফিশিং হলো সবচেয়ে পুরোনো কিন্তু এখনও সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি। এখানে প্রতারকরা আপনার কাছে এমন একটি ইমেইল, মেসেজ বা লিংক পাঠায় যা দেখতে হুবহু আপনার ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল যোগাযোগের মতো। সেই লিংকে ক্লিক করলে আপনাকে একটি নকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করানো হয় যেখানে আপনার পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি বা কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। আপনি যখনই সেই তথ্য দেন, মুহূর্তেই আপনার অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়। মনে রাখবেন, কোনো প্রতিষ্ঠান কখনোই ফোন বা মেসেজে আপনার গোপন তথ্য জানতে চায় না।

২. ভুয়া অনলাইন শপ ও ফেসবুক পেজ

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অসংখ্য ভুয়া অনলাইন শপ দেখা যায় যারা অত্যন্ত কম দামে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়। ছবিগুলো এতটাই আকর্ষণীয় হয় যে লোভ সামলানো কঠিন। আপনি অগ্রিম টাকা পাঠিয়ে দেন, কিন্তু পণ্য আর আসে না। কিছু ক্ষেত্রে পণ্য আসলেও তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বা নষ্ট হয়ে যায়। এসব পেজের পেছনে কোনো বাস্তব ব্যবসা থাকে না; থাকে শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর একটি ফোন নম্বর। পেমেন্ট নেওয়ার পর সেই নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা

৩. লটারি ও পুরস্কারের ফাঁদ

আপনার ফোনে হঠাৎ একটি মেসেজ আসে, "অভিনন্দন! আপনি লটারিতে ৫ লক্ষ টাকা জিতেছেন।" অথবা "আপনার সিমকার্ডটি একটি বিশেষ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।" এরপর টাকা পাওয়ার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি পাঠাতে বলা হয়। এটাই ক্লাসিক অগ্রিম ফি প্রতারণা। মনে রাখবেন, কোনো বৈধ পুরস্কারের জন্য বিজয়ীকে কখনোই টাকা দিতে হয় না। এই ধরনের মেসেজ পেলেই বুঝবেন এটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

৪. প্রতারণামূলক বিনিয়োগ স্কিম

এই প্রতারণাগুলোতে সাধারণত বলা হয়, "দিনে ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা ইনকাম করুন মাত্র ৫০০ টাকা বিনিয়োগে।" অথবা "ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে রাতারাতি কোটিপতি হোন।" মানুষ লোভে পড়ে টাকা বিনিয়োগ করে। প্রথমে কিছু টাকা ফেরতও দেওয়া হয় যাতে বিশ্বাস তৈরি হয়। তারপর মানুষ বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করলে সেই টাকা নিয়ে প্রতারকরা গায়েব হয়ে যায়। দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখানো কোনো স্কিমই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

৫. ভুয়া ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির বিজ্ঞাপন

বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। বলা হয়, "বিশ্বখ্যাত কোম্পানিতে চাকরি, বেতন ৫০,০০০ টাকা, কোনো অভিজ্ঞতা লাগবে না।" আবেদন করতে গেলে বলা হয় রেজিস্ট্রেশন ফি, ট্রেনিং ফি বা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে। টাকা জমা দিলেই সেই প্রতিষ্ঠানের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। আসল ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে কখনোই অগ্রিম টাকা দিতে হয় না।

৬. সিম সোয়াপিং ও ওটিপি জালিয়াতি

এটি প্রযুক্তিগতভাবে কিছুটা জটিল কিন্তু খুবই বিপজ্জনক। প্রতারকরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে মোবাইল অপারেটরের কাছে গিয়ে আপনার সিমের ডুপ্লিকেট ইস্যু করে নেয়। এরপর আপনার ফোনে আসা সব ওটিপি তাদের কাছে চলে আসে। ফলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া — সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সন্দেহজনক কোনো কল বা মেসেজে তথ্য না দেওয়াই এর প্রতিরোধের মূল উপায়।

৭. রোমান্স স্ক্যাম

সোশ্যাল মিডিয়া বা ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হওয়া একজন বিদেশি বা ধনী ব্যক্তি কিছুদিন কথাবার্তার পর আপনার সাথে আবেগঘন সম্পর্ক তৈরি করে। এরপর হঠাৎ কোনো সমস্যার কথা বলে টাকা চায় — "আমার ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে", "আমি অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি", "তোমার কাছে আসতে চাই কিন্তু ভিসার টাকা নেই।" মানুষ আবেগে আক্রান্ত হয়ে টাকা পাঠিয়ে দেয় এবং পরে আর সেই ব্যক্তির খোঁজ পায় না। অনলাইনে পরিচিত অপরিচিত কারো কাছে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই ভেবে দেখুন।

৮. ভুয়া কাস্টমার কেয়ার নম্বর

আপনার কোনো সমস্যা হলে গুগলে সার্চ করে একটি কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজে পান। কিন্তু সেই নম্বরটি আসলে প্রতারকদের। তারা নিজেদেরকে কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে আপনার ফোনে একটি অ্যাপ ইনস্টল করতে বলে (যেমন AnyDesk, TeamViewer) যা আসলে একটি রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে তারা আপনার ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেয়।

মোবাইল ফোনে সাইবার অপরাধ

কীভাবে বুঝবেন আপনি প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু?

প্রতারকরা সাধারণত কিছু কমন কৌশল ব্যবহার করে। এই লক্ষণগুলো দেখলেই সতর্ক হয়ে যান:

  • অত্যন্ত জরুরি বা ভয় দেখানো মেসেজ — "আজকের মধ্যে না করলে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।"
  • অস্বাভাবিকভাবে কম দামে পণ্য বা বিশাল লাভের প্রতিশ্রুতি।
  • কোনো কাজ করতে গেলে অগ্রিম টাকা চাওয়া।
  • ফোন বা মেসেজে ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড চাওয়া।
  • অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার জন্য চাপ দেওয়া।
  • অফিসিয়াল যোগাযোগের জন্য ব্যক্তিগত ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী উপায়

প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা ও সতর্কতা। নিচের বিষয়গুলো মেনে চললে আপনি অনেক বড় বিপদ থেকে বেঁচে যেতে পারবেন।

১. কখনোই ওটিপি বা পিন শেয়ার করবেন না

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। মনে রাখবেন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কখনোই কাউকে বলা যাবে না, এমনকি আপনার নিকটতম মানুষকেও না। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান কখনোই আপনার ওটিপি জানতে চায় না। কেউ চাইলেই বুঝবেন সে প্রতারক।

২. অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না

ইমেইল, মেসেজ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা কোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যেসব লিংকে বলা হয় "আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাবে" বা "এখানে ক্লিক করে পুরস্কার নিন" — এগুলো এড়িয়ে চলুন। লিংকের গন্তব্য যাচাই করতে চাইলে ব্রাউজারে সরাসরি সেই ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখে যান।

৩. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন

আপনার সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে (ইমেইল, ব্যাংক, সোশ্যাল মিডিয়া) টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখুন। এতে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও দ্বিতীয় ধাপের যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা স্তর।

৪. অনলাইনে কেনাকাটার আগে যাচাই করুন

কোনো অনলাইন শপ থেকে কেনার আগে সেই পেজের রিভিউ, রেটিং এবং প্রতিষ্ঠার সময়কাল দেখুন। ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা থাকলে সেটাই বেছে নিন। কোনো পেজ যদি শুধুমাত্র অগ্রিম পেমেন্ট চায়, তাহলে সেটি থেকে কেনা এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্কতা

বিনামূল্যের পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন করবেন না। এই নেটওয়ার্কগুলোতে হ্যাকাররা আপনার তথ্য চুরি করতে পারে। যদি ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে অবশ্যই একটি ভিপিএন ব্যবহার করুন।

৬. নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন

প্রতি ৩-৬ মাস পরপর আপনার গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। পাসওয়ার্ড হতে হবে শক্তিশালী — ছোট হাতের অক্ষর, বড় হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়ে। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না।

৭. সন্দেহ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

যদি কখনো মনে হয় আপনার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম হয়েছে, তাহলে দেরি না করে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি কমানো যায়। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের অভিযোগ করতে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

৮. পরিবার ও বন্ধুদের সচেতন করুন

আপনি নিজে যত সচেতনই হোন না কেন, আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্য বা কম প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন মানুষরা প্রতারণার সহজ শিকার হতে পারেন। তাদের সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন, উদাহরণ দিন, এবং বুঝিয়ে বলুন কীভাবে সাবধান থাকতে হয়।

অনলাইন প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন?

যদি দুর্ভাগ্যবশত আপনি প্রতারণার শিকার হয়ে যান, তাহলে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

  1. ব্যাংক ও কার্ড ব্লক করুন: সাথে সাথে আপনার ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) এবং ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্লক করুন।
  2. পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন: আপনার ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন।
  3. প্রমাণ সংগ্রহ করুন: প্রতারকের সাথে হওয়া চ্যাট, কল লগ, লেনদেনের স্ক্রিনশট, মেসেজ — সবকিছু সেভ রাখুন।
  4. পুলিশে অভিযোগ করুন: নিকটস্থ থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন। বাংলাদেশে অনলাইনে অভিযোগ করতে www.police.gov.bd বা হ্যালো সিটিও অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।
  5. অন্যান্যকে সতর্ক করুন: যেই প্ল্যাটফর্মে প্রতারণাটি হয়েছে সেখানে রিপোর্ট করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে অন্যকে সচেতন করুন।

সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করছে। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা রোধে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে। তবে একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। জনগণের সচেতনতাই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

সাইবার নিরাপত্তা ও সচেতনতা

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, প্রতারণার পদ্ধতিও তত জটিল হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এখন ভুয়া ভিডিও ও ভয়েস তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যাকে বলা হয় ডিপফেক। এর মাধ্যমে প্রতারকরা আপনার পরিচিত মানুষের মুখ ও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে ভিডিও কলে টাকা চাইতে পারে। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং নতুন নতুন প্রতারণার পদ্ধতি সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

উপসংহার

অনলাইন জগৎ আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি নিয়ে এসেছে নতুন নতুন ঝুঁকি। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা, সতর্কতা এবং সঠিক জ্ঞান থাকলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সতর্ক হওয়া — এই দুটি অভ্যাসই আপনাকে বাঁচাতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতারকরা আপনার লোভ, ভয় এবং আবেগকে কাজে লাগায়। আপনি যদি শান্ত থেকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে কোনো ফাঁদেই পা দেবেন না। নিজে সচেতন থাকুন, পরিবারকে সচেতন করুন, আর নিরাপদে ঘুরে বেড়ান ডিজিটাল জগতে।

Frequently Asked Questions

প্রতারণার শিকার হওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রথম আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) এবং কার্ড ব্লক করুন। এরপর দ্রুত আপনার ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। সব চ্যাট, স্ক্রিনশট ও লেনদেনের প্রমাণ সেভ রেখে নিকটস্থ থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করুন।

না। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স সাইট) কখনোই ফোন, মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে আপনার ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড জানতে চায় না। কেউ চাইলেই বুঝবেন সে প্রতারক। সাথে সাথে কল বা মেসেজটি ব্লক করে দিন।

কেনার আগে পেজটির রিভিউ, রেটিং, ফলোয়ারের সংখ্যা এবং পেজটি কতদিন ধরে চালু আছে তা দেখুন। ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা থাকলে সেটাই বেছে নিন। যদি কোনো পেজ শুধুমাত্র অগ্রিম পেমেন্ট চায় এবং যোগাযোগের কোনো নির্ভরযোগ্য ঠিকানা না দেয়, তাহলে সেটি থেকে কেনা এড়িয়ে চলুন।

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের অভিযোগ করতে পারেন নিকটস্থ থানায়, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে, অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে। এছাড়া অনলাইনে www.police.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে বা হ্যালো সিটিও অ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করা যায়।

ডিপফেক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা নকল ভিডিও বা অডিও যাতে কোনো মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর বা চলাফেরা হুবহু নকল করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতারকরা আপনার পরিচিত কারো ছদ্মবেশে ভিডিও কলে টাকা চাইতে পারে বা ভুয়া তথ্য ছড়াতে পারে। কোনো অপ্রত্যাশিত ভিডিও কলে টাকা চাওয়া হলে সরাসরি ফোন করে সত্যতা যাচাই করুন।

এই ধরনের মেসেজ পেলে সাথে সাথে মুছে দিন এবং নম্বরটি ব্লক করুন। মনে রাখবেন, কোনো বৈধ পুরস্কার বা লটারির জন্য বিজয়ীকে কখনোই অগ্রিম কোনো ফি দিতে হয় না। আপনি যদি কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণই না করে থাকেন, তাহলে পুরস্কার পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

তাদের সাথে সহজ ভাষায় প্রতারণার পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। উদাহরণ দিন এবং বুঝিয়ে বলুন যে কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত কাউকে ওটিপি, পিন বা টাকা পাঠানো যাবে না। তাদের ফোনে থাকা অপরিচিত মেসেজ বা কল সম্পর্কে আপনাকে জানানোর জন্য উৎসাহিত করুন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User