২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কোনটি? (ভালো-খারাপ দিক)
২০ হাজার টাকার মধ্যে সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল খুঁজছেন? কোন ফোনটা ভালো হবে, কেনার আগে কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখবেন এবং এর ভালো-খারাপ দিক বিস্তারিত জানুন।
২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কোনটা কিনবেন? ভালো-খারাপ দিক ও সম্পূর্ণ রিভিউ
ভাবছেন ২০ হাজার টাকার মধ্যে একটা ভালো সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কিনবেন? কিন্তু কোনটা নিলে ঠকবেন না, কোনটার পারফরম্যান্স আসলেই ভালো, আর কোনটা নিলে পরে আফসোস করতে হবে — এই সব চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে? চিন্তা নেই, আজকের এই আর্টিকেলটা আপনার জন্যই। বাংলাদেশের বর্তমান মার্কেটে ২০ হাজার টাকার বাজেটে এমন কিছু সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন পাওয়া যায় যেগুলো পারফরম্যান্স, ক্যামেরা আর ব্যাটারি ব্যাকআপে অনেক নতুন মিড-রেঞ্জ ফোনকেও হার মানায়। তবে হ্যাঁ, সঠিক ফোনটা বেছে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। এই লেখায় আমি আপনাকে শুধু সেরা কয়েকটা ফোনের নামই বলবো না, বরং প্রতিটা ফোনের ভালো-খারাপ দিক, মার্কেট প্রাইস, কেনার আগে কী কী চেক করবেন — সবকিছু বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেবো।
সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনার সময় সবচেয়ে বড় ভয়টা হলো — ফোনটা আদৌ ঠিকঠাক চলবে তো? ব্যাটারি কেমন থাকবে? ডিসপ্লেতে কোনো সমস্যা আছে কি না? কিংবা ফোনটা চোরাই মাল নয় তো? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে আপনি নিশ্চিন্তে কিনতে পারবেন। তাই আজকের আর্টিকেলে আমি সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কেনার নিয়ম থেকে শুরু করে কোন কোন মডেল সবচেয়ে ভরসাযোগ্য — সবকিছু গুছিয়ে বলবো। চলুন, শুরু করা যাক।
কেন সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কেনা বুদ্ধিমানের কাজ?
নতুন ফোনের দাম দিন দিন বাড়ছেই। ২০ হাজার টাকায় এখন নতুন ফোনে যা পাবেন — কম প্রসেসর, কম র্যাম, আর মোটামুটি ক্যামেরা। কিন্তু একই বাজেটে সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে পাবেন এক-দুই বছর আগের ফ্ল্যাগশিপ বা প্রিমিয়াম মিড-রেঞ্জ ফোন। এই ফোনগুলোর প্রসেসর, ডিসপ্লে, ক্যামেরা কোয়ালিটি — সবকিছুই অনেক এগিয়ে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহার, গেমিং, ফটোগ্রাফি — সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা হবে অনেক ভালো।
তবে সেকেন্ডহ্যান্ড কিনতে গেলে কিছু ঝুঁকিও থাকে। যেমন — ফোনের ভেতরের যন্ত্রাংশে কোনো সমস্যা থাকতে পারে যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। আবার ওয়ারেন্টি পাওয়া যায় না বললেই চলে। তাই সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন যাচাই করার পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। নিচে আমি ধাপে ধাপে সব বলছি।
সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কেনার আগে যে ৭টি বিষয় অবশ্যই চেক করবেন
ফোন হাতে নিয়ে শুধু চালু করে দেখলেই হবে না। কিছু গভীরভাবে পরীক্ষা করা দরকার। আসুন জেনে নিই সেই বিষয়গুলো:
১. ফিজিক্যাল কন্ডিশন ও বডি চেক
ফোনের চারপাশ ভালোভাবে দেখুন। কোনো ডেন্ট, স্ক্র্যাচ বা বাঁকা হয়ে আছে কি না। বিশেষ করে চার্জিং পোর্ট, হেডফোন জ্যাক আর সিম ট্রের দিকে নজর দিন। ফোনের কাচ বা বডি বদলানো হয়েছে কি না বোঝার চেষ্টা করুন।
২. ডিসপ্লে চেক
স্ক্রিনে ডেড পিক্সেল আছে কি না দেখতে একটি সাদা এবং একটি কালো ছবি খুলে পরীক্ষা করুন। টাচ ঠিকমতো কাজ করছে কি না, স্ক্রিনের কোনো অংশে টাচ রেসপন্স করছে না কি না — সেটাও যাচাই করুন। অনেক সময় ফোনে অরিজিনাল ডিসপ্লের বদলে লোকাল ডিসপ্লে লাগানো থাকে, যেটা পরে সমস্যা করে।
৩. ব্যাটারি হেলথ চেক
সেকেন্ডহ্যান্ড ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ব্যাটারি। সেটিংসে গিয়ে ব্যাটারি হেলথ দেখুন। আইফোন হলে সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি হেলথ-এ গিয়ে দেখুন ম্যাক্সিমাম ক্যাপাসিটি কত শতাংশ। অ্যান্ড্রয়েড হলে অ্যাকুবে টেস্ট বা ব্যাটারি হেলথ অ্যাপ দিয়ে চেক করুন। ৮০% এর নিচে হলে সেই ফোন না নেওয়াই ভালো।
৪. IMEI নম্বর ও চোরাই ফোন কি না যাচাই
ফোনের ডায়ালারে *#06# লিখে IMEI নম্বর বের করুন। তারপর বাংলাদেশ টেলিকমিউনাল রেগুলেটরি কমিশনের (BTRC) ওয়েবসাইটে গিয়ে ফোনের IMEI ভ্যালিড কি না চেক করুন। এতে বোঝা যাবে ফোনটি অফিসিয়ালি ইমপোর্টেড কি না এবং চোরাই কি না।
৫. নেটওয়ার্ক ও সেন্সর চেক
সিম ঢুকিয়ে কল করে দেখুন। Wi-Fi, ব্লুটুথ, GPS, প্রোক্সিমিটি সেন্সর, অটো-রোটেশন — সব ঠিকমতো কাজ করছে কি না পরীক্ষা করুন। স্পিকার আর মাইক্রোফোনও টেস্ট করে নিন।
৬. ওয়াটার ড্যামেজ চেক
ফোনের সিম ট্রে বের করে ভেতরে দেখুন। অনেক ফোনের ভেতরে একটি সাদা স্টিকার থাকে যা পানিতে পড়লে লাল হয়ে যায়। স্টিকার লাল হলে বুঝবেন ফোনে পানি ঢুকেছিল।
৭. সফটওয়্যার ও অ্যাকাউন্ট লক চেক
ফোনে কোনো গুগল অ্যাকাউন্ট বা iCloud লক আছে কি না দেখুন। আইফোন হলে Activation Lock চেক করুন। ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করে দেখুন কোনো অ্যাকাউন্ট চেয়ে বসে কি না। লক থাকলে সেই ফোন কখনোই কিনবেন না।
২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল – তালিকা
এখন আসি মূল প্রসঙ্গে। ২০ হাজার টাকার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কোনগুলো? বাংলাদেশের বর্তমান সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেট ঘুরে আর ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি এখানে সেরা ৬টি ফোনের তালিকা দিচ্ছি। প্রতিটির ভালো-খারাপ দিকও উল্লেখ করছি।
১. Samsung Galaxy A52s 5G
স্যামসাংয়ের A সিরিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফোনগুলোর একটি A52s 5G। এখন সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
ভালো দিক
- ৬.৫ ইঞ্চির সুপার AMOLED ডিসপ্লে, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট — স্ক্রলিং আর গেমিং দুই-ই অসাধারণ
- Snapdragon 778G প্রসেসর — মিড-রেঞ্জে দারুণ পারফরম্যান্স
- ৬৪ মেগাপিক্সেলের OIS ক্যামেরা — ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন চমৎকার
- IP67 ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স — সেকেন্ডহ্যান্ডেও এই ফিচারটা দারুণ
- স্টেরিও স্পিকার — মাল্টিমিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স ভালো
- ৩ বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেটের সুযোগ
খারাপ দিক
- ব্যাটারি ৪৫০০mAh — ভারী ব্যবহারে একদিনও টেকে না
- সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ডিসপ্লেতে গ্রিন লাইনের সমস্যা থাকতে পারে
- চার্জিং স্পিড মাত্র ২৫ ওয়াট — ফুল চার্জে ১ ঘণ্টার বেশি লাগে
- কোনো হেডফোন জ্যাক নেই
২. Google Pixel 6a
গুগলের Pixel সিরিজের ফোনগুলো ক্যামেরার জন্য বিখ্যাত। Pixel 6a এখন সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।
ভালো দিক
- Tensor চিপ — গুগলের নিজস্ব প্রসেসর, AI ফিচারে অসাধারণ
- ক্যামেরা কোয়ালিটি এই দামে অতুলনীয় — বিশেষ করে নাইট ফটোগ্রাফি
- ক্লিন অ্যান্ড্রয়েড এক্সপেরিয়েন্স — কোনো ব্লোটওয়্যার নেই
- ৫ বছর পর্যন্ত সিকিউরিটি আপডেটের নিশ্চয়তা
- Titan M2 সিকিউরিটি চিপ — ডেটা সিকিউরিটিতে দারুণ
খারাপ দিক
- ডিসপ্লে মাত্র ৬০ হার্টজ — ১২০ হার্টজের তুলনায় স্মুথনেস কম
- ব্যাটারি ব্যাকআপ গড়পড়তা — ভারী ব্যবহারে দিনের শেষে চার্জ দিতে হয়
- চার্জিং খুবই ধীর — ১৮ ওয়াট
- বাংলাদেশে অফিসিয়ালি পাওয়া যায়নি — সাপোর্ট পাওয়া কঠিন
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর স্লো
৩. Xiaomi Mi 11 Lite 5G NE
শাওমির এই ফোনটি সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে মেলে। ডিজাইন আর ওজনে অসাধারণ এই ফোন।
ভালো দিক
- খুবই হালকা — মাত্র ১৫৮ গ্রাম, হাতে ধরলে মনে হয় না ফোন ব্যবহার করছেন
- Snapdragon 778G প্রসেসর — ডেইলি টাস্কে মসৃণ পারফরম্যান্স
- ৬.৫৫ ইঞ্চি AMOLED ডিসপ্লে, ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট
- ৬৪ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা — দিনের আলোতে দারুণ ছবি তোলে
- ডিজাইন প্রিমিয়াম — গ্লাস ব্যাক প্যানেল
খারাপ দিক
- মাইক্রো SD কার্ড স্লট নেই
- স্টেরিও স্পিকার নেই — শব্দ একটু কম
- ব্যাটারি ৪২৫০mAh — গড়পড়তা ব্যাকআপ
- MIUI সফটওয়্যারে বিজ্ঞাপন আসে
৪. OnePlus Nord 2 5G
OnePlus-এর নর্ড সিরিজ সবসময়ই পারফরম্যান্সের জন্য বিখ্যাত। Nord 2 এখন সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।
ভালো দিক
- MediaTek Dimensity 1200 AI প্রসেসর — ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের পারফরম্যান্স
- ৯০ হার্টজের AMOLED ডিসপ্লে — HDR10+ সাপোর্টেড
- ৫০ মেগাপিক্সেল Sony IMX766 সেন্সর — OIS সহ, কম আলোতেও দারুণ ছবি
- ৬৫ ওয়াটের Warp চার্জিং — ৩০ মিনিটেই ফুল চার্জ
- অক্সিজেন OS — ক্লিন আর ফাস্ট সফটওয়্যার
খারাপ দিক
- গরম হওয়ার সমস্যা আছে — ভারী গেমিংয়ে গরম লাগে
- ব্যাটারি ৪৫০০mAh — একদিনের বেশি টেকে না
- হেডফোন জ্যাক নেই
- সেকেন্ডহ্যান্ডে ডিসপ্লে সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে
- ColorOS-এর সাথে মিশে গিয়ে অক্সিজেন OS তার নিজস্বতা হারিয়েছে
৫. Apple iPhone XR (৬৪GB)
আইফোন ব্যবহারের স্বাদ নিতে চাইলে XR এখন সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। তবে একটু পুরনো মডেল হওয়ায় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
ভালো দিক
- iOS ইকোসিস্টেম — সফটওয়্যার এখনো আপডেট পাচ্ছে
- A12 Bionic চিপ — ডেইলি ব্যবহারে এখনো যথেষ্ট স্মুথ
- ডিসপ্লে Liquid Retina — রং নির্ভুল
- ক্যামেরা — দিনের আলোতে চমৎকার ছবি, পোর্ট্রেট মোড দারুণ
- Face ID — সিকিউরিটি ভালো
- আইফোনের রিসেল ভ্যালু ভালো
খারাপ দিক
- ব্যাটারি ব্যাকআপ দুর্বল — ২৯৪২mAh, হেভি ইউজে অর্ধেক দিনও টেকে না
- ডিসপ্লে বেজেল অনেক মোটা
- চার্জিং খুবই ধীর — বক্সে ৫ ওয়াটের চার্জার ছিল
- LCD ডিসপ্লে — এই দামে অ্যান্ড্রয়েডে AMOLED পাওয়া যায়
- সিঙ্গেল ক্যামেরা — আল্ট্রা-ওয়াইড নেই
- সেকেন্ডহ্যান্ডে ব্যাটারি হেলথ কমে গিয়ে থাকে
৬. Realme GT Master Edition
রিয়েলমির এই ফোনটি সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে ১৬ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকায় মেলে। ডিজাইন-সচেতনদের জন্য এটি দারুণ পছন্দ।
ভালো দিক
- Snapdragon 778G প্রসেসর — মিড-রেঞ্জে শক্তিশালী
- ১২০ হার্টজের Super AMOLED ডিসপ্লে — গেমিংয়ে অসাধারণ
- ভয়েজার গ্রে ডিজাইন — স্যুটকেসের মতো লুক, খুবই ইউনিক
- ৬৫ ওয়াটের সুপারডার্ট চার্জিং — ৩৩ মিনিটে ফুল
- স্টেরিও স্পিকার — মাল্টিমিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স ভালো
খারাপ দিক
- ক্যামেরা পারফরম্যান্স গড়পড়তা — প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে
- ব্যাটারি ৪৩০০mAh — একদিনের বেশি টেকে না
- রিয়েলমির UI-তে প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ বেশি থাকে
- হেডফোন জ্যাক নেই
- সেকেন্ডহ্যান্ডে ফ্রেমের রং উঠে যেতে পারে
কোনটা কিনবেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার গাইড
এতগুলো ফোনের মধ্যে কোনটা আপনার জন্য সেরা হবে — সেটা নির্ভর করে আপনার ব্যবহারের ধরনের ওপর। আসুন সহজ করে বুঝিয়ে দিই:
যদি গেমিং করেন:
তাহলে OnePlus Nord 2 বা Realme GT Master Edition বেছে নিন। দুটির প্রসেসরই গেমিংয়ের জন্য দারুণ। তবে Nord 2-এর ক্যামেরা আরো ভালো।
যদি ক্যামেরা ও ছবি তোলা পছন্দ করেন:
Google Pixel 6a আপনার জন্য সেরা। রাতের ছবি হোক বা দিনের — Pixel-এর ক্যামেরা এই দামে অতুলনীয়। এছাড়া Samsung A52s-এর OIS ক্যামেরাও দারুণ।
যদি আইফোন ব্যবহার করতে চান:
তাহলে iPhone XR ছাড়া আর কোনো অপশন নেই এই বাজেটে। তবে মনে রাখবেন, ব্যাটারি ব্যাকআপ দুর্বল। সেকেন্ডহ্যান্ড আইফোন কেনার আগে ব্যাটারি হেলথ অবশ্যই চেক করবেন।
যদি অলরাউন্ডার চান:
Samsung Galaxy A52s 5G সবচেয়ে ব্যালেন্সড। IP67, OIS ক্যামেরা, AMOLED ডিসপ্লে, স্টেরিও স্পিকার — সবকিছু মিলিয়ে সেরা। শুধু ব্যাটারি একটু দুর্বল।
সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কেনার সেরা সময় ও জায়গা
সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলো নতুন কোনো মডেল লঞ্চ হওয়ার পরের মাস। তখন অনেকেই পুরনো ফোন বিক্রি করে দেন, ফলে দাম একটু কমে যায়। এছাড়া ঈদের পরও মার্কেটে অনেক ফোন আসে।
জায়গার দিক থেকে ঢাকার মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, রিয়াজউদ্দিন বাজার — এই জায়গাগুলো সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইলের জন্য বিখ্যাত। অনলাইনে সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনার জন্য নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হলো Bikroy.com, Facebook Marketplace, এবং বিভিন্ন বিশ্বস্ত ফোন সেলিং গ্রুপ। তবে অনলাইনে কেনার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনার সময় বিক্রেতাকে যে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করবেন
ফোন কেনার আগে বিক্রেতাকে কিছু জরুরি প্রশ্ন করা উচিত। যেমন:
- ফোনটি কবে কেনা হয়েছিল? বিল বা বক্স আছে কি?
- ফোনে কি কোনো সমস্যা হয়েছিল? মেরামত করা হয়েছে কি?
- ব্যাটারি কি কখনো বদলানো হয়েছে?
- ডিসপ্লে অরিজিনাল তো?
- ফোনে কোনো লক বা অ্যাকাউন্ট আছে কি?
- কেন বিক্রি করছেন?
বিক্রেতার উত্তর শুনে যদি কোনো অসঙ্গতি পান, তাহলে সাবধান হোন। মনে রাখবেন, সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনার সময় ধৈর্য ধরাই সবচেয়ে বড় গুণ। তাড়াহুড়ো করলে ঠকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
কেনার পরে যা করবেন
ফোন কেনার পরে কয়েকটি জিনিস অবশ্যই করবেন:
- ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট করুন
- নিজের গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্ট লগইন করুন
- সব সেন্সর ও ফিচার আবার টেস্ট করুন
- একটি ভালো কোয়ালিটির কেস ও স্ক্রিন প্রোটেক্টর লাগান
- ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করুন
- প্রথম কয়েকদিন ফোনের ব্যাটারি পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করুন
উপসংহার
২০ হাজার টাকার মধ্যে সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে দারুণ কিছু ফোন পাওয়া যায় — একথা নিশ্চিত। তবে সঠিক ফোন বেছে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, ধৈর্য আর সতর্কতা। এই আর্টিকেলে উল্লেখিত ৬টি ফোনের যেকোনো একটি কিনলে আপনি ভুল করবেন না — যদি ফোনটি ভালো কন্ডিশনে পান। তবে কেনার আগে উপরোক্ত সবগুলো চেকিং পয়েন্ট মেনে চলুন। আর হ্যাঁ, দাম নিয়ে একটু দর কষাকষি করতে ভুলবেন না। সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল কেনার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি দীর্ঘদিন ভালো সার্ভিস পাবেন। শুভ কেনাকাটা!
Frequently Asked Questions
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)