এফ-কমার্স (F-Commerce) কি? ফেসবুকে ব্যবসা করার সম্পূর্ণ নিয়ম
এফ-কমার্স কি এবং কীভাবে ফেসবুকে সফল অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন? নতুনদের জন্য পেজ খোলা থেকে সেল পাওয়ার সম্পূর্ণ A to Z গাইড জেনে নিন এখানে।
এফ-কমার্স কি? ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড (নতুনদের জন্য A to Z)
ভাবুন তো, আপনার একটা ছোট্ট হাতে-বানানো মোমবাতির ব্যবসা আছে। পণ্য সুন্দর, দামও ন্যায্য। অথচ সারাদিনে অর্ডার আসে মাত্র একটা-দুটো। অন্যদিকে আরেকজন একই ধরনের পণ্য বিক্রি করে প্রতিদিন ২০-৩০টা অর্ডার পাচ্ছেন। পার্থক্যটা কোথায়? পণ্যের মানে নয়, পার্থক্য হলো ফেসবুককে কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তার মধ্যে।
বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার বড় একটা অংশ চলে ফেসবুকের ওপর ভর করে, আর এই পদ্ধতিরই নাম এফ-কমার্স। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় দেখব এফ-কমার্স আসলে কী, কেন এটি এত জনপ্রিয়, কীভাবে সঠিক পরিকল্পনায় বিজ্ঞাপন চালাতে হয় এবং নতুন উদ্যোক্তারা কোথায় সবচেয়ে বেশি ভুল করেন।
এফ-কমার্স কি?
এফ-কমার্সের পূর্ণরূপ ফেসবুক কমার্স (Facebook Commerce)। যখন কোনো পণ্য বা সেবা ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেখানো হয়, কাস্টমার মেসেঞ্জারে কথা বলে অর্ডার করেন এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি বা মোবাইল পেমেন্টে টাকা দেন, পুরো এই প্রক্রিয়াটাই এফ-কমার্সের আওতায় পড়ে।
সহজ করে বললে, ফেসবুক এখানে আপনার অনলাইন দোকানের সাইনবোর্ড, ডিসপ্লে আর ক্যাশ কাউন্টার সবকিছুর কাজ করে। বাড়তি ওয়েবসাইট বানানোর ঝামেলা ছাড়াই আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
কেন এত মানুষ এফ-কমার্সকেই বেছে নিচ্ছেন?
১. ক্রেতারা যেখানে সময় কাটান, দোকান সেখানেই
আমরা প্রতিদিন গড়ে অনেকটা সময় ফেসবুকে কাটাই। সেখানে আপনার পণ্য সামনে এলে ক্রেতাকে আলাদা করে কোথাও আনতে হয় না। মানুষ বন্ধুদের পোস্ট দেখতে দেখতেই আপনার বিজ্ঞাপনে চোখ রাখে।
২. মেসেজ করে কেনার অভ্যাস
আমাদের দেশের অনেক ক্রেতা ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করে অর্ডার দিতে স্বস্তি পান না। তারা চান কারও সঙ্গে সরাসরি কথা বলে দাম, সাইজ বা ডেলিভারি সম্পর্কে জেনে নিতে। ওয়েবসাইট থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ীর বেশিরভাগ অর্ডার পেইজের ইনবক্সেই আসে, কারণ এখানে আস্থা তৈরি হয় দ্রুত।
৩. কম পুঁজিতে শুরু করা যায়
ডোমেইন, হোস্টিং বা ডেভেলপারের খরচ ছাড়াই একটি পেইজ খুলে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। ছোট বাজেটে বিজ্ঞাপন দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা যায় কোন পণ্য চলছে আর কোনটা চলছে না।
৪. নিখুঁতভাবে টার্গেট করার সুযোগ
ফেসবুক আপনাকে বয়স, এলাকা, আগ্রহ ও আচরণ দেখে নির্দিষ্ট মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে দেয়। এতে অপ্রয়োজনীয় মানুষের পেছনে টাকা খরচ কমে।
ব্যবসা শুরুর আগে যে প্রস্তুতিগুলো সেরে নিতে হবে
ঝাঁপিয়ে পড়ে "বুস্ট" চাপার আগে কিছু মৌলিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এগুলো ঠিক থাকলে পরে অনেক টাকা ও সময় বাঁচে।
একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও বিজনেস অ্যাকাউন্ট
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালাতে হলে প্রথমে আপনার একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল লাগবে। সেই প্রোফাইল দিয়ে খুলতে হবে বিজনেস অ্যাকাউন্ট। এর ভেতরে থাকে অ্যাড অ্যাকাউন্ট, যেখান থেকে আপনি আসল বিজ্ঞাপন তৈরি করবেন। মনে রাখবেন, একটি প্রোফাইল থেকে সীমিত সংখ্যক বিজনেস অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, তাই অকারণে একের পর এক অ্যাকাউন্ট বানাবেন না।
একটি গোছানো ফেসবুক পেইজ
বিজ্ঞাপন সবসময় কোনো না কোনো পেইজ থেকেই চলে। তাই পেইজের নাম, প্রোফাইল ছবি, কভার, যোগাযোগের তথ্য ও পণ্যের ছবি পরিষ্কার হওয়া দরকার। অগোছালো পেইজ দেখলে ক্রেতার মনে সন্দেহ জাগে।
পেমেন্ট পদ্ধতি: আন্তর্জাতিক কার্ড
ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের বিল দিতে হয় ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে, যা ডলারে পেমেন্ট করতে পারে। বর্তমানে অনেক ব্যাংক সাধারণ কার্ডকেই ডলার-সক্ষম করে দেয়, তাই ব্যাংকে যোগাযোগ করলেই বিষয়টি মিটে যায়। বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন চালালে সাধারণত বিলের ওপর ১৫% ভ্যাট যুক্ত হয়। ১০০ ডলারের বিজ্ঞাপনে বিল আসে ১১৫ ডলার। অনেকে প্রথমবার এটা দেখে ঘাবড়ে যান, অথচ এটা স্বাভাবিক। ভ্যাট ও বিআইএন সংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।
কাস্টমারকে না চিনে বিজ্ঞাপন দিলে টাকা নষ্ট হয়
একটা সময় ছিল যখন "১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী, ঢাকার ছেলে-মেয়ে" ধরনের সাধারণ টার্গেটিং দিয়েই কাজ চলে যেত। কারণ তখন বিজ্ঞাপনদাতা কম ছিল, প্রতিযোগিতাও কম ছিল। এখন প্রতিটি ক্লিকের জন্য লড়াই হয়, তাই ভুল মানুষকে বিজ্ঞাপন দেখানো মানে সরাসরি টাকা পুড়িয়ে ফেলা।
ধাপ ১: আদর্শ ক্রেতার একটি ছবি আঁকুন
ধরুন আপনি অর্গানিক মধু বিক্রি করেন। আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা কারা? হয়তো ২৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী গৃহিণী বা চাকরিজীবী, যারা পরিবারের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন। তারা কোন এলাকায় থাকেন, কোন ধরনের পেইজ ফলো করেন, কী নিয়ে চিন্তিত, এসব লিখে ফেলুন। এটাকেই বলে কাস্টমার পার্সোনা।
ধাপ ২: তাদের আসল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করুন
জীবনের সব সমস্যা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। আপনার পণ্যের সঙ্গে যে সমস্যাগুলো সরাসরি জড়িত, সেগুলোই দেখুন। মধুর ক্ষেত্রে সেটা হতে পারে "ভেজাল মধুর ভয়", "দাম বেশি মনে হওয়া" কিংবা "সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া"। তিন-চারটা সমস্যা চিহ্নিত করুন।
ধাপ ৩: নিজেকে গাইড হিসেবে উপস্থাপন করুন
গল্পের নায়ক আপনার ক্রেতা, আপনি নন। আপনার ভূমিকা একজন পথপ্রদর্শকের। প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি করে সমাধান দেখান, যেমন ল্যাব টেস্টের প্রমাণ, ছোট প্যাকে কেনার সুযোগ, দ্রুত ডেলিভারি। এরপর দেখান পণ্যটি ব্যবহার করলে ক্রেতার জীবন কেমন সহজ হবে, আর ব্যবহার না করলে কী ঝুঁকি থেকে যায়। এই ছয়টি দিক মাথায় থাকলে বিজ্ঞাপনের আইডিয়ার অভাব হবে না।
বিজ্ঞাপনের ধরন: কোনটি কখন কাজে লাগে?
ফেসবুকে একাধিক ধরনের বিজ্ঞাপন চালানো যায়। একজন ভালো মার্কেটার সবগুলো চেনেন এবং পরিস্থিতি বুঝে বেছে নেন।
- ইমেজ অ্যাড: সবচেয়ে সহজ ও বহুল ব্যবহৃত। একটি ছবি, কিছু লেখা, শিরোনাম ও বাটন থাকে।
- ভিডিও অ্যাড: বাংলাদেশে দারুণ সাড়া পায়। পণ্যের ব্যবহার, আনবক্সিং বা ক্রেতার অভিজ্ঞতা দেখানোর জন্য আদর্শ।
- ক্যারোসেল অ্যাড: এক বিজ্ঞাপনে পাঁচ-ছয়টি পণ্য দেখানো যায়। কাপড়, জুতা বা গয়নার মতো বৈচিত্র্যময় পণ্যের জন্য উপযুক্ত।
- মেসেজ অ্যাড: ক্রেতাকে সরাসরি ইনবক্সে কথা বলতে উৎসাহিত করে। এফ-কমার্সে এটি খুবই কার্যকর।
- লিড অ্যাড: ফেসবুকের ভেতরেই একটি ছোট ফর্ম খোলে। ফ্ল্যাট, কোচিং বা উচ্চমূল্যের সেবার জন্য ভালো, কারণ পরে ফোন করে ক্রেতাকে বোঝাতে হয়।
- পোল অ্যাড: কম খরচে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য দারুণ, যদিও অনেকেই এটি ব্যবহার করেন না।
বিজ্ঞাপন দেখানোর গোপন হিসাব: টোটাল ভ্যালু (TV)
কেন কারও বিজ্ঞাপন সারাক্ষণ চোখে পড়ে, আর কারও একবারও পড়ে না? এর পেছনে আছে ফেসবুকের একটি অলিখিত নিয়ম:
টোটাল ভ্যালু = আপনার বিড + প্রত্যাশিত অ্যাকশন রেশিও + বিজ্ঞাপনের মান
ধরা যাক দুটি শাড়ির দোকান একই এলাকায় একই ক্রেতাদের সামনে বিজ্ঞাপন দিতে চায়। দুজনেই দৈনিক ৫ ডলার বাজেট রেখেছে। প্রথম দোকানের বিজ্ঞাপন মোটামুটি, ফলে তার মোট স্কোর হলো ১৭। দ্বিতীয় দোকানের ছবি অনেক আকর্ষণীয়, লেখা আকর্ষণীয় আর মানুষ সেটায় বেশি সাড়া দিচ্ছে, তাই তার স্কোর হলো ২০। একই টাকা খরচ করেও ফেসবুক জায়গা দেবে দ্বিতীয়জনকে।
বিজ্ঞাপন দেখা না গেলে প্রথমেই বাজেট বাড়াবেন না
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে বাজেট দ্বিগুণ করে ফেলেন। অথচ এটা সবচেয়ে ব্যয়বহুল সমাধান। বরং এই ক্রমে এগোন:
- ছবি, ভিডিও, লেখা ও শিরোনাম বদলে অন্তত পাঁচ-ছয়টি সংস্করণ পরীক্ষা করুন।
- অফার আরও আকর্ষণীয় করে তুলুন, যাতে মানুষ বেশি সাড়া দেয়।
- সবকিছু চেষ্টার পরই, শেষ অপশন হিসেবে বাজেট বাড়ান।
আরেকটা বিষয় মনে রাখবেন। নতুন বিজ্ঞাপন প্রথম কয়েকদিন ভালো চলে, তারপর একই ছবি বারবার দেখে মানুষ বিরক্ত হয় এবং স্কোর কমতে থাকে। তাই নিয়মিত নতুন ক্রিয়েটিভ যোগ করতে হবে।
বাজেট ঠিক করার সহজ অঙ্ক
"কত টাকার বিজ্ঞাপন দেব?" এই প্রশ্নের উত্তর অনুমানে নয়, হিসাব করে বের করতে হয়। একটা উদাহরণ দেখা যাক।
ধরুন আপনি চামড়ার ওয়ালেট বিক্রি করেন।
- বিক্রয়মূল্য: ৯০০ টাকা
- উৎপাদন ও প্যাকেজিং খরচ: ঢ৫০০ টাকা
- ডেলিভারি ও অন্যান্য খরচ: ১০০ টাকা
- প্রতি অর্ডারে লাভ (বিজ্ঞাপন খরচের আগে): ৩০০ টাকা
এখানে প্রতিটি অর্ডার পেতে বিজ্ঞাপনে যদি ৩০০ টাকার বেশি খরচ হয়, তাহলে আপনি লোকসানে আছেন। আর ১০০-১৫০ টাকায় অর্ডার আনতে পারলে ব্যবসা টেকসই। এই অঙ্ক না কষে বিজ্ঞাপন শুরু করাটা চোখ বন্ধ করে গাড়ি চালানোর মতো।
শুরুতে প্রতিটি ক্যাম্পেইনে দৈনিক ৫ ডলারের মতো বাজেট দিয়ে সাত দিন পর্যন্ত দেখুন। কোনটা কাজ করছে, কোনটা করছে না, তা এই সময়ের মধ্যেই বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়। উচ্চমূল্যের পণ্য হলে ক্রেতাকে বোঝাতে বেশি ধাপ লাগে, তাই ক্যাম্পেইনের সংখ্যাও বেশি লাগে। আর সস্তা পণ্যের ক্ষেত্রে ছোট ও সরল ফানেলেই কাজ চলে।
ফেসবুক পিক্সেল: আপনার ওয়েবসাইটের গোয়েন্দা
যদি আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে ফেসবুক পিক্সেল বসানো প্রায় বাধ্যতামূলক। এটি একটি ছোট্ট কোড, যা ওয়েবসাইটে যুক্ত করলে ফেসবুক বুঝতে পারে কে আপনার সাইটে এসেছে, কোন পেইজ দেখেছে, কার্টে পণ্য রেখেছে কিনা বা কিনেছে কিনা।
পিক্সেলের সুবিধাগুলো
- বিজ্ঞাপন থেকে আসলে কতগুলো বিক্রি হলো তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়।
- যারা সাইট ঘুরে কিছু না কিনে চলে গেছেন, তাদের আবার বিজ্ঞাপন দেখানো যায়।
- আপনার ক্রেতাদের মতো দেখতে নতুন মানুষ খুঁজে পেতে ফেসবুকের সাহায্য নেওয়া যায় (লুক-এলাইক অডিয়েন্স)।
ওয়ার্ডপ্রেস, শপিফাই বা উইক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে প্লাগিন বা সেটিংসের মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই পিক্সেল যুক্ত করা যায়। আপনি যদি কারও হয়ে কাজ করেন, তাহলে কোডটি তাদের ডেভেলপারকে পাঠিয়ে দিলেই হয়।
রিটার্গেটিং: যারা একবার এসেছেন, তাদের আবার ডাকুন
একজন ক্রেতা সাধারণত প্রথমবার দেখেই কিনে ফেলেন না। বহুবার আপনার নাম চোখে পড়ার পর একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন। রিটার্গেটিং হলো সেই মানুষদেরই আবার বিজ্ঞাপন দেখানো, যারা ইতোমধ্যে আপনার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত হয়েছেন। এই কাজে কয়েক ধরনের তালিকা ব্যবহার করা যায়:
- ওয়েবসাইট ভিজিটর: গত ৩০, ৬০ বা ৯০ দিনে যারা সাইটে এসেছেন।
- ভিডিও দর্শক: যারা আপনার ভিডিওর ৩ সেকেন্ড, ৫০% বা ৯৫% দেখেছেন।
- পেইজ এনগেজমেন্ট: যারা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বা পোস্ট সেভ করেছেন।
একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। তালিকা যত ছোট হবে, মান তত ভালো হবে, কিন্তু মানুষের সংখ্যা কমে যাবে। ৫০ জনের তালিকা থেকে ১০০ পণ্য বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব। তাই সংখ্যা আর মানের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। আর রিটার্গেটিং তখনই ভালো কাজ করে, যখন আপনার পেইজ, ভিডিও বা ওয়েবসাইটে যথেষ্ট মানুষ এসেছে।
"ইনফরমেশন স্যান্ডউইচ": কম খরচে বেশি বিক্রির কৌশল
সরাসরি পণ্য গছিয়ে দেওয়ার চেয়ে আগে মূল্যবান তথ্য দিয়ে আস্থা তৈরি করলে বিক্রি অনেক সহজ হয়। কৌশলটি তিন ধাপের:
- তথ্য দিন: ধরুন আপনি হ্যান্ডমেড সাবান বানান। ত্বকের যত্ন নিয়ে দুই-তিনটি কাজের ভিডিও বানান, যেখানে সরাসরি কিছু বিক্রির চেষ্টা থাকবে না।
- ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দিন: কম খরচে ভিডিও ভিউ ক্যাম্পেইন চালিয়ে যত বেশি মানুষের কাছে সম্ভব পৌঁছান।
- রিটার্গেট করে বিক্রি করুন: যারা ভিডিওগুলোর অন্তত অর্ধেক দেখেছেন, শুধু তাদেরই আপনার সাবানের অফার দেখান।
এই মানুষগুলো আপনাকে আগেই চেনেন এবং আপনার জ্ঞানকে বিশ্বাস করেন। তাই তাদের কাছে বিক্রি করতে খরচ কম পড়ে, আর তারা দীর্ঘমেয়াদে আপনার বিশ্বস্ত ক্রেতা হয়ে থাকেন।
প্রতিযোগীরা কী করছে তা দেখার সহজ উপায়
ফেসবুক (মেটা) অ্যাড লাইব্রেরিতে যে কেউ যেকোনো পেইজের চলমান বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন। সেখানে দেশ নির্বাচন করে পেইজের নাম বা কীওয়ার্ড লিখে সার্চ করলেই জানা যায়:
- প্রতিযোগী এখন কতগুলো বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে।
- কোন বিজ্ঞাপন কতদিন ধরে চলছে (দীর্ঘদিন চলা মানে সম্ভবত কাজ করছে)।
- তারা ছবি, ভিডিও নাকি ক্যারোসেল বেশি ব্যবহার করছে।
- বিজ্ঞাপনের লেখা কেমন এবং বাটনে ক্লিক করলে কোথায় নিয়ে যায়।
এটি নকল করার জন্য নয়। এটি বোঝার জন্য যে বাজারে আপনাকে কী মানের লড়াই করতে হবে।
নতুনদের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো
- না বুঝে "বুস্ট" চাপা: এতে টার্গেটিং, লক্ষ্য ও পরিমাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। বিজনেস ম্যানেজারই শ্রেয়।
- একটিমাত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে সব আশা করা: ভালো ফলের জন্য পরীক্ষা করতে হয়।
- লাভ-ক্ষতির হিসাব না রাখা: কত খরচে একটি অর্ডার আসছে তা না জানলে ব্যবসা অন্ধকারে চলে।
- ক্যাম্পেইন চালু রেখে ভুলে যাওয়া: ব্যবহার না হলে বন্ধ করে দিন, নইলে অকারণে টাকা কাটতে থাকবে।
- ফলাফলের রেকর্ড না রাখা: স্ক্রিনশট বা ভিডিও করে রাখুন। এটাই ভবিষ্যতে আপনার পোর্টফোলিও।
হাতেকলমে শেখার ৩০ দিনের সহজ পরিকল্পনা
- প্রথম সপ্তাহ: বিজনেস অ্যাকাউন্ট, পেইজ ও পেমেন্ট সেটআপ করুন। ক্রেতার পার্সোনা আর সমস্যার তালিকা লিখে ফেলুন।
- দ্বিতীয় সপ্তাহ: দুটি ক্যাম্পেইন চালু করুন, একটি যুক্তিনির্ভর, একটি আবেগনির্ভর।
- তৃতীয় সপ্তাহ: ফলাফল দেখে যেটি খারাপ, সেটি বদলান। রিটার্গেটিং তালিকা তৈরি শুরু করুন।
- চতুর্থ সপ্তাহ: ভালো চলা ক্যাম্পেইনে ধীরে ধীরে বাজেট বাড়ান এবং সবকিছুর হিসাব সংরক্ষণ করুন।
থিওরি পড়ে কেউ দক্ষ হয় না। নিজের বা পরিচিতদের ব্যবসায় ছোট বাজেটে বাস্তব ক্যাম্পেইন চালালেই আসল অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
এফ-কমার্স নিয়ে আরও গভীরে জানতে চান? এই বইটি আপনার জন্য
ব্লগ পড়ে ধারণা পাওয়া যায়, কিন্তু ধাপে ধাপে সাজানো একটি নির্দেশিকা হাতে থাকলে শুরুটা অনেক নিশ্চিন্ত হয়। আপনি যদি এফ-কমার্স নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে এই বইটি আপনার জন্য দারুণ সহায়ক হতে পারে।
- স্পষ্ট ভিত্তি: এফ-কমার্স আসলে কী এবং কেন এটি এত কার্যকর, তা সহজ ভাষায় জানতে পারবেন।
- শুরুর দিকনির্দেশনা: এফ-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে কী কী প্রয়োজন হয়, সেটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন।
- ভুল এড়ানোর সুযোগ: গোছানো তথ্য হাতে থাকলে অনুমানে ঝাঁপ দেওয়ার ঝুঁকি কমে।
- আত্মবিশ্বাস: ব্যবসার প্রথম ধাপগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
আপনি যদি নতুন উদ্যোক্তা হন বা ফেসবুকে ব্যবসা করে আরও পরিকল্পিতভাবে এগোতে চান, তাহলে এখনই বইটি সংগ্রহ করতে পারেন:
শেষ কথা
এফ-কমার্স শুধু ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার নাম নয়। এটি পরিকল্পনা, কাস্টমারকে বোঝা, সঠিক বিজ্ঞাপন, নিয়মিত পরীক্ষা আর হিসাব রাখার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যারা প্রতিদিন একটু একটু করে শেখেন এবং বাস্তবে প্রয়োগ করেন, তারাই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকেন। আজ থেকেই ছোট একটি পরীক্ষা শুরু করুন। সেটাই হবে আপনার সফল অনলাইন ব্যবসার প্রথম ধাপ।
Frequently Asked Questions
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)